দক্ষিন এশিয়ার অপরুপ সৌন্দর্যের দেশ শ্রীলংকা, এটি একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। শ্রীলংকার প্রধান ও রাজধানী শহর কলম্বো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংবলিত পাহাড় ও সমুদ্র সৈকত এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি ডেসটিনেশন হওয়ায় পৃথীবির বিভন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আমি আমার সম্প্রত্তি ভ্রমনের খরচ সহ আমার নিজের আইটিনারি জানাচ্ছি।
ফ্লাইট: আমি টিকেট কেটেছিলাম ব্যাংকক-কলম্ব-ব্যাংকক শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সে। একটু আগে কাটাতে আমার ২২,০০০ টাকার মত খরচ হয়েছিল। সেইম টাকায় যদি শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সে টিকেট না পান তাহলে থাই লায়ন এয়ারে কাটতে পারেন। থাই লায়নে রেগুলার প্রাইস ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা।
যেহেতু বাংলাদেশ থেকে শ্রীলংকা সরাসরি টিকেট প্রাইস ৬০/৭০ হাজার টাকা, সেক্ষেত্রে ভারত ট্রানসিট (সেইম পিএনআর) দিয়ে শ্রীলংকা আসতে পারেন, সে ক্ষেত্রে হয়ত হাফ টাকায় টিকেট পেযে যাবেন। অথবা কেউ যদি থাইল্যান্ড আসেন রি-এন্ট্রি পারমিট (১২০০ বাথ) নিয়ে শ্রীলংকা ঘুড়ে এসে আবার থাইল্যান্ড ঘুড়তে পারেন মানে আমি থাইল্যান্ড+শ্রীলংকা একসাতে ভ্রমনের কথা বলছি।
ভিসা: শ্রীলংকা তে ই ভিসা করা লাগে। খুবই সহজ। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজে নিজে এপ্লিকেশন করে ভিসার জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। আপনার যদি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড থাকে তাহলে ২১ ডলার পে করতে হবে ই-ভিসার জন্য। আপনার কার্ড না থাকলে পরিচিত কারও ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিতে পারবেন। ই-ভিসা ইস্যু হতে সময় নেয় ২৪ ঘন্টা কিন্তু আমার ঘন্টাখানেকের মধ্যে এপ্রোভ হয়ে গিয়েছিল। ভিসা করতে এক্সট্র ডুকুমেন্টস যেমন ফ্লাইট বুকিং, হোটেল বুকিং, ব্যাংক স্টাটম্যান্ট ইত্যাদি কোন কিছুরেই প্রয়োজন নেই। এটা যাস্ট সিম্পল একটা ফর্ম। এড্রেস ইন শ্রীলংকার যায়গায় যে কোন একটা হোটেলের ঠিকানা দিয়ে দিবেন তাহলেই হবে।
ভিসা ইস্যু হবে ৬ মাস মাল্টিপল এন্ট্রি এবং প্রতি এন্ট্রিতে ৩০ দিন করে থাকার সুযোগ পাবেন চাইলে আরও ৩০ দিন এক্সটেন্ড করা যাবে।
ইমিগ্রেশন অভিজ্ঞতা: থাইল্যান্ড থেকে সাধারনত কোন কিছু জিজ্ঞাসা করেনা এক্সিট হওয়ার সময়। শ্রীলংকা ইমিগ্রেশনেও কিছু জিজ্ঞাসা করেনি এমনকি হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকেটও দেখতে চায়নি। যদিও আমার সবকিছু গুছানো ছিল। লেস দেন ১ মিনিটে ইমিগ্রেশন শেষ।
ডে ১:
শ্রীলংকার এয়ারপোর্ট কলম্ব থেকে দূরে ৩২ কিলোমিটার দূরে নিগম্বতে। আমরা ল্যান্ড করেই চলে গিয়েছি কলম্ব শহরে। পিক মি এবং উবার এই দুইটা এপ এখানে চলে। আমি এয়ারপোর্ট থেকে ডলার এক্সচেন্জ করেছি ১০০ ডলারে ৩০,২০০ রুপি। একটা সিম কিনে নিয়েছি ১৪০০ রুপিতে ২০ জিবি ইন্টারনেট সহ একমাস মেয়াদ।
পিক মি তে রেজিস্টার করে কলম্ব যাওয়ার জন্য কল করি, ৫ মিনিটের মধ্যেই টুকটুক চলে এসেছে এয়ারপোর্টের এক্সিট গেইটে। এয়ারপোর্ট থেকে কলম্ব শহরে যেতে আমার খরচ হয়েছে ২৫০০ রুপির মত। হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সিটি এক্সপ্লোরে বের হই। ঈদের দিন হওয়াতে শহরে অনকে ভীর ছিল। আমি Galle Face Beach, One Galle Face Mall, Jami Ul-Alfar Mosque, Pettah Market এই প্লেস গুলোতে ঘুড়াঘুড়ি করি রাত ১১ টা পর্যন্ত। পিক মি এবং উবার টুকটুক ব্যাবহার করতেছি। উল্লেখিত প্লেসগুলোতে ২০০-৫০০ রুপিতে আসা যাওয়া খরচ হয়েছে। এরমধ্যে খাবারের খরচ হয়েছে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ রুপির মত।
প্রথম দিনে আমার খরচ হয়েছে: ১৪০০+১৪০০ রুপি দুইটি সিম কার্ড, এয়ারপোর্ট টু কলম্ব ২৫০০ রুপি, শহরের ভিতর ঘুড়াঘুড়ি ১৫০০ রুপির মত, খাওয়া দাওয়া ১৮০০ রুপির মত, কফি জাভা লাউন্জে ১৬০০ রুপি। হোটেল ভাড়া ৬,০০০ রুপি। টোটাল: ১৩,১২০ রুপি / BD ৪৫৬৮ টাকা।

এর মধ্যে স্টেষনে গিয়েছিলাম টিকেট কাটতে ক্যান্ডি যাওয়ার জন্য। কিন্তু দু:খের বিষয় পরবর্তী দুইদিনের টিকেট সেল হয়ে গেছে। তবে চাইল তৃতীয় শ্রেনীর টিকেট নেওয়া যাবে ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে। সিট পাবেন কিনা শিওর না। আমার প্লান ছিল কলম্ব-ক্যান্ডি-নুয়ারা এলিয়া-এল্লা-গল ফোর্ট-কলম্ব কিন্তুু ট্রেনের টিকেট না পাওয়ায় প্লান চেন্জ করে কলম্ব-গলফোর্ট-এল্লা-নুয়ারা এলিয়া-ক্যান্ডি-কলম্ব করেছি।
আমি https://12go.asia/en এশিয়ার ওয়েবসাইট থেকে এল্লা টু নুয়ারা এলিয়া, নুয়ারা এলিয়া টু ক্যান্ডি এবং ক্যান্ডি টু কলম্ব টিকেট কেটে নিয়েছি।
ডে ২:
সকাল সকাল Galle Face Beach সহ আশে পাশে কিছু এলাকা ঘুড়ে নাস্তা করে হোটেলে ফিরে এসে চেকআউট করে দেই বাস স্ট্যান্ডের উদ্যেশে। টুকটুক নিয়ে চলে যাই Makubura Highway bus & train station এ। ভাড়া এসেছে ২০০০ রুপির মত। ওখানে গিয়ে গলফোর্টের বাস ধরি। এয়াকন্ডিশন বাস এক্সপ্রেসওয়ে ধরে চলবে। বাস ভ্রমনে আমি অনেকটা থাইল্যান্ড মালশিয়া ফিল পাই। এখান থেকে ১০৯ কিলোমিটার এয়ারকন্ডিশন বাস ভাড়া ৮২০ রুপি / BDT ২৮৮ জনপ্রতি। কোন ডাকাডাকি বা দালালের দৌড়াদৌড়ি নাই। সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো। প্রায় দুই ঘন্টার মত সময় লেগে গেছে। বাস স্টান্ড থেকে ৫০০ রুপি দিয়ে একটি টুকটুক নিয়ে চলে যাই হোটেলে। হোটেলে গিয়ে ফ্রেস হয়ে চলে যাই গল ফোর্ট লাইট হাউজের কাছে। ওখানে ঘন্টা দুয়েক সময় থেকে টুকটুক দিয়ে চলে যাই Unawatuna Beach এ। ওখানে সন্ধা পর্যন্ত থেকে আবার গল ফোর্টে হোটেলে ব্যাক করি। ব্যাক করার সময় টুকটুকে ১০০০ রুপি খরচ হয়েছিল।


খরচ: কলম্বতে সকালে সিটি এক্সপ্লোর+নাশ্তা খরচ হয়েছিল প্রায় ২০০০ রুপির মত। হোটেল থেকে বাস স্ট্যান্ড ২০০০ রুপির মত। বাস ভাড়া ৮২০+৮২০ দুইজন ১৬৪০ রুপি। বাসস্ট্যান্ড থেকে হোটেল ৫০০ রুপি টুকটুকে। দুপুরে খাওয়া দাওয়া দুইজন ১৫০০ রুপির মত। গলফোর্ট থেকে Unawatuna Beach আসা যাওয়া ১৫০০ রুপি। রাতের খাওয়া ১৬০০ রুপি। হোটেল ভাড়া ৫৫০০ রুপি। চা, কফি, বিবিধ আরও ১০০০ রুপির মত। টোটাল: ১৭২৪০ রুপি / BD ৬০০০ টাকা




ডে ৩:
আমাদের গন্তব্য ছিল এল্লা যাওয়া। গল ফোর্ট থেকে খুব সকালে একটি সরাসরি বাস আছে কিন্তু আমরা ওই বাসে যায়নি কারন পথে একটি স্পট কোকোনাট হিল ট্রি ঘুড়ব। যেতে হবে মাতারা নামাক একটি যায়গায় যেখান থেকে এল্লা বাস চলে
সকাল নাস্তা করি দুজেন প্রায় ১৫০০ রুপি দিয়ে তারপর একটি টুকটুক ভাড়া করি ১২০০ রুপি দিয়ে মাতারা পর্যন্ত এবং উনাকে বলি কোকোনাট হিল ট্রি তে ৩০/৪০ মিনিটের মত থাকব।



মাতারা গিয়ে উঠে যাই এল্লা যাওয়ার বাসে। বাস ভাড়া পরেছিল ৫৮০ রুপি। নামিয়ে দিয়েছিল wellawaya নামক একটি স্থানে এল্লা থেকে কাছেই। ওখান থেকে আবার আর একটি বাসে ১২০ রুপি দিয়ে চলে যাই এল্লা শহরে। প্রায় ৫-৬ ঘন্টার মত সময় লেগেছে। এল্লাতে আমরা একটু হোম-স্টে তে ছিলাম। ভাড়া পড়েছিল ৪০০০ রুপি। আমরা ছিলাম দুই রাত। খরচ: ব্রাকফাস্ট ১৫০০, টুকটুক ১২০০, বাসভাড়া ৫৮০+ ৫৮০+১২০+১২০, হোটেল ভাড়া ৪০০০, রাতের খাবার ২১০০ রুপি। টোটাল ১০,২০০ রুপি / BD ৩৫৫১ টাকা।


ডে ৪
পরদিন আমার ছিলাম এল্লা তে। সকালে হোম স্টে তে ফ্রি ব্রাকফাস্ট ছিল। একটা মটরবাইক রেন্ট নেই ২৫০০ রুপিতে এবং এক্সপ্লোর করি এই প্লেসগুলো Uva Tea Factory, Nine Arches Bridge, Little Adam’s Peak। তার মধ্যে উভা টি ফেক্টরিতে ১৬০০ রুপি এন্ট্রি ফি ছিল ছোটা খাট একটি চা বাগান ট্যাুর, ট্যাুর শেষে বিভিন্ন রকম চা টেস্ট করার সুযোগ।
খরচ: বাইক ভাড়া ২৫০০ রুপি, ৩ লিটার পেট্রোল ৭০০ রুপির মত, দুপরের খাবার ১৬০০ রুপি, চা বাগান ফি ১৬০০ রুপি, রাতের খাবার ২২০০ রুপি, হোটেল ভাড়া: ৪০০০ রুপি। টোটাল: ১২৬০০ রুপি / BD ৪৩৮৭ টাকা
ডে ৫:
আমারদের গন্তব্য ছিল নুয়ারা এলিয়াতে ট্রেনে করে। সকালে হোম স্টে ব্রাকফাস্ট করে রেলওয়ে স্টেষনে চলে যাই ২০০ রুপিতে। ট্রেনের টিকেট ছিল ২৫০০ রুপি প্রথম শ্রেনী। ট্রেনে নুয়ারা এলিয়া যেতে চাইলে নামতে হবে নানুওয়া নামক একটি স্টেষনে। ওখান থেকে নুয়ারা এলিয়াতে হোটেল পর্যন্ত ১০০০ রুপি।
খরচ: ট্রেন টিকেট দুইজনের ৫০০০ রুপি। স্টেষন টু নুয়ারা এলিয়া ১০০০ রুপি। রাতের খাবার ১৯৩০ রুপি, হোটেল ভাড়া ৫৫০০ রুপি। টোটাল ১৩৪৩০ রুপি / BD ৪৭৭৬ টাকা
ডে ৬:
গতদিন আমরা একটা টুকটুকের সাথে যোগাযোগ করি হাফ ডে ট্যুর এর জন্য এবং ৫০০০ রুপি চায়। আমাদের কাছে প্রাইস রিজেনেবল মনে হয়েছে তাই তাকে বলি সকাল বেলা আমাদের কে হোটেল থেকে পিক করার জন্য। সে সময়মত চলে আসে এবং পপুলার কিছু স্পটে আমাদের ঘুড়িয়ে নানুওয়া স্টেষনে নামিয়ে দেয়। সকাল ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ছিল। আমরা ঘুরে দেখেছি Damro Tea garden, Ramboda Falls, Little England, Gregory Park, Victoria Park।
আমাদের ট্রেন ছিল ক্যান্ডির উদ্যেশ্যে কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকে ট্রেন লাইনের মাঝখানে গাছ পড়ে ওইদিন ট্রেন ক্যান্সেল হয়ে গিয়েছিল। তাই আবার আমারা ১২০০ রুপি দিয়ে নুয়ারা এলিয়া এসে বাসে ক্যান্ডির উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেই। সরাসরি ক্যান্ডির বাস পাইনি তাই শহর থেকে একটু দূরে নামিয়ে দিয়েছে। ওখান থকে টুকটুক করে ভাড়া ৫০০ রুপি।
রাত ৯ টায় আমরা পৗেছে যাই হোটেলে। হোটেল ছিল সিটি সেন্টারে, সবকিছুই হাটার দূরত্বে। ভাড়া ৫,৮০০ রুপি।
খরচ: টুকটুক ৫০০০ রুপি, সকালে নাস্তা হোটেলে ছিল, দুপুরের খাবার দুইজনের ১৬০০ রুপি, বাস ভাড়া ৪৮০+৪৮০ দুইজনরে রুপি, বাস্টস্ট্যান্ড থেকে হোটেল পর্যন্ত ৫০০ রুপি, রাতের খাবার দুইজনের ১৯০০ রুপি, হোটলে ভাড়া ৫৮০০ রুপি।
টোটাল: ১৫৭৬০ রুপি / BD ৫,৪৮৭ টাকা
ডে:৭
আমারা সকাল তেমন সময় পাইনি শুধু ক্যান্ডি লেক এবং শহর দেখার সুযোগ হয়েছে। আবহাওয়া বেশী ভাল ছিলনা, বৃষ্টি ছিল অনেক বেশী। আমাদরে বিকালে ট্রেন ছিল কলম্বতে। হোটেল থেকে টুকটুক দিয়ে বের হয়ে যাই ব্রাকফাস্ট করে ক্যান্ডি রেলওয়েতে। গিয়ে জানতে পারি ট্রেন ডিলেয় হবে দুই ঘন্টার মত।
ক্যান্ডি থেকে কলম্ব ট্রেনে পৗেচাই প্রায় ৪ ঘন্টায়। ওইদিন ট্রেন থেকে নেমে চলে যাই নিগম্ব এয়ার পোর্টের কাছের একটি হোম স্টেতে। আমার ফ্লাইট ছিল পরদিন সকালে। টুকুটুকে ভাড়া লেগেছিল ২৮০০ রুপি।
খরচ: হোটেল টু রেলওয়ে স্টেষন টুকটুক ভাড়া ৫০০ রুপি, ব্রাকফাস্ট+লাঞ্চ দুইটাই একসাথে করে নিয়েছিলাম ১৭০০ রুপি। ক্যান্ডি টু কলম্ব ট্রেনের টিকেট দুই জনের ২৫০০+২৫০০ রুপি, কলম্ব টু নিগম্ব টুকটুকে ২৮০০ রুপি, রাতের খাবার দুইজনে ১৩০০ রুপি। টোটাল: ১১,৩০০ রুপি / BD ৩৯৩৪ টাকা
ডে ৮
ব্যাংককের ফ্লাইট ধরার জন্য সকাল সকাল এয়ারপোর্টে চলে আসি। এয়ারপোর্টে ৩ বার সিকিউরিটি চেক হয়েছে। অন্যান্য দেশে যেখানে ১বার বা দুই বার হয়ে থাকে।
হোটেল থেকে আমাদের ফ্রি ড্রপ করে দেয় এয়ারপোর্ট আমি কিছু রুপি টিপস দিয়ে দেই। শ্রীলংকান এয়ার লাইন্সের সবদেশের চেকইন কাউন্টার এক ছিল, অনেক লম্বা লাইন কোন স্টাফ ছিলনা কাউন্টারের বাহিরে। কাউকে কোন প্রশ্ন করবেন তারও কোন উপায় ছিলনা। ওইদিকে বিজনেস ক্লাসের লাইনে দেরী হওয়ার কারনে কিছু লোকাল মানুষদের চিল্লাচিল্লি শোনা গেছে।
শ্রীলংকায় যা ভাল লেগেছে: খুব সুন্দর এবং চমতকার একটি দেশী। খরচ তুলনা মূলক ভাবে কম মনে হয়েছে। কমবেশী সবাই ইংরেজী বলতে পারে। স্কামার/দালাল খুব বেশী চোখে পরেনি। টুরিস্টদের কে জিম্মি করবে এমন কোন পরিবেশ পাইনি।
যা ভাল লাগেনি: শ্রীলংকা তে উন্নত মানের বাস তেমন একটা নেই। ট্রেন যোগাযোগ ভাল কিন্তু ট্রেন প্রায় সময়েই ডিলেয় হয়। ইন্টারনেট খুব বাজ। আপনি যদি অনলাইনে কাজ করার বা রিমুট ওয়ার্কিং এর কথা চিন্তা করেন তাহলে কলম্ব থেকে করতে হবে। বাহির ইন্টারনেট ভালনা, মোবাইলের ফোরজি বাংলাদেশের মতই তবে ডাটা সস্তা মনে হয়েছে।
আমি মনে করি ক্যাম্বডিয়ার বাজে ইমিগ্রেশন ফেস করার আগে আপনি শীলংকা ঘুড়তে পারেন। দেখুন আপনাকে কিভাবে ওরা ট্রিট করে। শ্রীলংকা দেওলিয়া হওয়া নিয়ে ট্রল করার আগে একবার শ্রীলংকা ঘুরে আসুন, তাদের আতিতিয়তা দেখুন। ঘুড়তে গিয়ে পরিবেশ নোংরা করবেননা, লোকালদের সাথে বন্ধুত্বপুর্ন আচারন করুন। আপনি ঘুড়তে গিয়ে দয়া করে এমন কিছু করবেননা যাতে আপনার দেশের অন্য লোকদের ভ্রমনে সমস্যা হয়।
আপনারা আমার এলবামটি ঘুরে দেখতে পারেন। কোন প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য করতে পারেন, উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।
হ্যাপি ট্রাভেলিং ![]()
![]()