থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৫,১৩,১২০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ৭ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশ।এর উত্তরে মিয়ানমার ও লাওস, পূর্বে লাওস ও কম্বোডিয়া, দক্ষিণে থাইল্যান্ড উপসাগর ও মালয়েশিয়া এবং পশ্চিমে আন্দামান সাগর ও মিয়ানমার অবস্থিত। পাহাড় সমূদ্রে ঘেরা প্রকৃতির অসাধারণ রূপ-লাবণ্য ভরপুর থাইল্যান্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসে। থাইল্যান্ড পর্যটন বান্ধব-এবং বাজেট ফ্রেন্ডলি গন্তব্য হওয়ায় ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আরও বেশী জনপ্রিয়।
একনজরে থাইল্যান্ড:
রাজধানী: ব্যাংকক
মুদ্রা: থাই বাথ ( ১ থাই বাথ সমান বাংলাদেশী মুদ্রা ৩.৫০ টাকা আনুমানিক)
ভাষা: থাই
আয়তন: ৫,১৩,১২০ বর্গকিলোমিটার
আজকে আমি থাইল্যান্ডের প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ রয়েছে তা নিয়ে লিখব।
১. ব্যাংকক
থাইল্যন্ডের রাজধানী ব্যাংকক চাও ফ্রেয়া নদীর তীরে অবস্থিত। থাইল্যান্ডের নাম নেওয়ার সাথে সাথেই এই শহরের নাম প্রথমে আসে। এটি থাইল্যান্ডের প্রধান বানিজ্যিক শহর। আধুনিকতায় ভরপুর এই শহরে রয়েছে আকাশচুম্বী অট্টালিকা, আধুনিক স্থাপত্য, চিত্রপ্রদর্শন গ্যালারি, জাদুঘর সহ নানা রকম ট্যুরিস্ট এট্রাকশন। থাছাড়া এটি অনেকের কাছে শপিং ডেসটিনেসনও বটে। এই শহরের রয়েছে দুইটা আন্তর্জাতিক এয়ার পোর্ট। প্রধান এয়ারেপার্ট সুভর্নভুমি আন্তর্জাতিক এয়ারেপার্ট এবং অন্যটি ডং-মুয়াং এয়ারেপার্ট। সুভর্নভুমি থেকে পৃথীবির বড় বড় শহর থেকে সরসরি ফ্লাইট রয়েছে এবং এটি দিয়েই সবচেয়ে বেশী মানুষজন আসা যাওয়া করে। অন্যটিতে বাজেট এবং ডমিস্টিক গন্তব্যের এয়ারলাইন্সর জন্য জনপ্রিয়।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৬ টি সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। বিমান বাংলাদেশের ১টি, থাই এয়ারওয়েজের ২টি, ইউএস বাংলার ১ টি এবং রয়েল ভুটান ১টি এবং এয়ার এশিয়ার ১ টি। শুধুমাত্র এয়ারএশিয়া ঢাকা থেকে ডং-মুয়াং এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে বাকিগুলো সুভর্নভুমি এয়ারেপার্টে।

২.পাতায়া
থাইল্যান্ডের উপসাগরে পাতায়া, চোনবুরি প্রদেশের ব্যাং লামুং জেলায়, ব্যাংকক শহর থেকে প্রায় 160 কিলোমিটার (99 মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। পাতায়াতে জোমতিয়েন সৈকতটি দীর্ঘ এবং সাধারণত যারা পরিষ্কার, সুন্দর, কম ব্যস্ত সৈকত এবং জলের পরিবেশ চান তাদের জন্য একটি ভাল বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হয়। ব্যাংককের পরেই এটি ভ্রমন পিপাসুদের একটি জনপ্রিয় জায়গা। সমূদ্রের হাতচানি, স্ট্রিট ফুড, সীফুড, নাইট মার্কেট সহ রয়েছে নানা রকম বিনোদনের ব্যাবস্থা। পাতায়ার কাছাকাছি কোহ লান নামে একটি আইল্যান্ড রয়েছে। এই আইল্যান্ডটি কোড়াল আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। পাতায়াতে জনপ্রিয় কিছু একটিভিটিস হচ্ছে প্যারাসেইলিং, দ্যা সেন্চুরি অফ ট্রুথ, পাতায়া ফ্লোটিং মার্কেট ভ্রমন, কোরাল আইল্যান্ড ডে ট্রিপ ইত্যাদি।

৩.ফুকেট
ফুকেট থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি শহর। থাইল্যান্ডের প্রাচীনতম শহরগুলির মধ্যে ফুকেট উল্ল্যেখ যোগ্য। ফুকেট মুয়াং ফুকেট জেলার তালাত ইয়াই এবং তালাত নুইয়া উপ- জেলা নিয়ে গঠিত। ফুকেট ওল্ড টাউনে রয়েছে দশটি হেরিটেজ বিল্ডিং। ক্লাং, ফাং এনগা, রাসাদা, ডি বুক, ক্রাবি, থেপ কাসাত্রি, ফুকেট, ইয়াওওয়ারাত, সাতুন এবং সোই রামমানি। তরুন প্রজন্মের কাছে ফুকেট ওল্ড টাউনটি ছবি তোলার দারুন জনপ্রিয়।
ফুকেটে পর্যর্টক রা মূলত বেড়াতে আসেন স্বচ্চ পানির সুন্দর সমূদ্র সৈকত উপেভাগ করতে, তাছাড়া কাছাকাছি ছোট বড় অনেকগুলো আইল্যান্ড রয়েছে। তার মধ্যে সবছেয়ে জনপ্রিয় ফিফি আইল্যান্ড। বীচের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ডেট্রিপ এক্টিভিটিস রয়েছে। পাতং বীচ, কামালা বীচ, সুরিন বীচ, কাটা নই বীচ মূলত এই বীচ গুলোর কাছাকাছি পর্যটকরা অবস্থান করে থাকেন।

৪. ফি ফি আইল্যান্ড
থাইল্যান্ডে ফিফি দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণপিপাসুদের একটি পছন্দের গন্তব্য। মূলত নীল স্বচ্ছ জলরাশি, স্নরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য এই দ্বীপটি বিখ্যাত। ফিফি দ্বীপপুঞ্জ ছয়টি ছোট ছোট দ্বীপে ফি ফি ডন, ব্যাম্বু দ্বীপ, বিদা নোক, ফি ফি লেই, ইয়াং দ্বীপ এবং বিদা নাই এর সমন্বয়ে গঠিত। মানুষজন সাধারনত হাফ ডে, ডে ট্রিপ বা প্রাইভেট বোট ভাড়া করে এই দ্বীপগুলির সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে। মূল দ্বীপে বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে লাক্সারি রিসোর্ট রয়েছে। নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যটন মৌসুম। দ্বীপটি ছোট হওয়ার কারনে কোন গনপরিবহনের ব্যাবস্থা নেই, তাছাড়া সবকিছুই হাটার দূরত্বে। এই দ্বীপে থাই মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশী।

৫. ক্রাবি
থাইল্যান্ডের আরও একটি অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব হচ্ছে ক্রাবি। ক্রাবি ছোটবড় ৮০ টি দ্বীপের সমন্বয়ে 4708 বর্গ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। ক্রাবি তার মনোরম দৃশ্য, সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিখ্যাত। পুরো ক্রাবি জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বীচ, উল্যেখ্য ফিফি দ্বীপপুঞ্জ কিন্তু থাইল্যান্ডের ক্রাবি প্রদেশের অন্তরভুক্ত। রাইলে বীচ ও গুহা (Railay Beach), থাং তেয়াও ফরেস্ট ন্যাশানাল পার্ক (Thung Teao National Park), ক্লোং থম হট স্প্রিংস (Khlong Thom Hot Springs), খাও খানাম নাম (Khao Khanap Nam) , কোহ হং আইল্যান্ড (Koh Hong island), নোফার্টারা বীচ (Noppharat Thara Beach) ইত্যাদি ক্রাবিতে উল্লেখেযাগ্য ভ্রমনের স্থান। তাছাড়া মূলত পর্যটক রা এয় নাং (Ao Nang Beach) বীচের কাছাকাছি থাকা হোটেল গুলােতে রাত্রি জাপন করে থাকেন।

৬. কোহ সামুই
কোহ সামুই আইল্যান্ড ব্যাংকক থেকে ৭৬৭ কিলোমিটার, ফুকেট থেকে ৩৩১ কিলোমিটার এবং ক্রাবি থকে ২৫৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থান, চারপাশে সমূদ্রঘেরা এই দ্বীপটি পর্যটকদের খুব আকর্ষন করে। পর্যটকরা সাধারনত লামাই বীচ (Lamai Beach) ও চেওয়াং বীচের (Chaweng Beach) কাছাকাছি অবস্থান করে থাকে। এই দ্বীপে বাজেট হোটেলের পাশাপাশি রয়েছে প্রাইভেট বীচ সহ লাক্সারি ৫ তারকা মানের হোটেল, এছাড়াও এই দ্বীপের এয়ারপোর্টটি (Koh Samui Airport) থাইল্যান্ডের অন্যতম সুন্দর এয়ারপোর্ট। অনেকটা রিসোর্টের আদলে তৈরী করা। এই দ্বীপের কাছাকাছি আরও একটি দ্বীপ কোহ ফাংগান এর অবস্থান

৭. চিয়াং মাই
চিয়াং মাই, ওরফে থাইল্যান্ডের আধ্যাত্মিক রাজধানী, আপনাকে অনেক এক্টিভিটিস এবং অভিজ্ঞতা উপভোগ করার দরজা খুলে দিবে যা আপনি অন্য কোথাও খুঁজে পাবেন না। দক্ষিণ দিকে কিছু দ্বীপ ঘুরে আপনি যদি চিয়াং মাই আসেন তাহলে পুরুপুর ভিন্ন একটা অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, চারদিকে উচুনিচু সুন্দর পাহাড় আপনাকে মুগ্ধ করবে।
চিয়াং মাই এর অত্যাশ্চর্য স্থাপত্য দ্বারা আচ্ছাদিত এবং ইতিহাসে সুন্দরভাবে নিমজ্জিত। উত্তরে অবস্থানের কারণে জলবায়ু ব্যাংককের তুলনায় শীতল থাকে।
