দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ লাওস যার চারপাশে থাইল্যান্ড, ক্যাম্বডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন এবং মায়ানমার রয়েছে। লাওসের আয়তন ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে এই দেশটি বাংলাদেশ থেকে ১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বেশী বড়। স্হানিয় মানুষ জন লাও বলেই ডেকে থাকে। লাওস দীর্ঘ সময় ফ্রান্সের অধীনে ছিল এবং স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৫৩ সালে।
আমি গত ৩০ ডিসেম্বর লাওস ভ্রমন করেছি এবং আমার অভিজ্ঞতার আলোকে এই পোস্টে লাওস ভ্রমন পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব।
লাওস সম্পর্কে কিছু তথ্য
দেশের নাম: ‘লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক’
মূদ্রা: কিপ (LAK)
জনসংখ্যা: ৭ মিলিয়ন বা ৭০ লাখ
রাজধানী: ভিয়েনতিয়েন
যারা মূলত প্রকৃতিপ্রেমী দক্ষিন এশিয়ায় তাদের পছন্দের তালিকায় লাওসকে রাখেন। এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর ছুটে আসে অনেক পর্যটক। তবে লাওস ট্যুরিজম কে খুব বেশী একটা প্রাধান্য দিয়ে থাকেনা। লাওসের প্রধান এয়ারপোর্টেও নামী দামী কোন এয়ারলাইন্স আসেনা। বেশীরভাগ ট্যুরিস্ট যারা থাইল্যান্ড, মালশিয়া বা ভিয়েতনাম ভ্রমনে আসেন তারা লাওসকে যুক্ত করে নেন।
লাওস ভিসা
বাংলাদেশীদের জন্য লাওস ভিসা একটু কস্টসাধ্য, যেহেতু বাংলাদেশে লাওসের কোন এম্বাসি নেই। তবে অন্য যেই দেশে এম্বাসি আছে সেখান থেকে নেওয়া যাবে। যেমন আমি লাওসের ভিসা নিয়েছলাম ভারতের নয়া দিল্লী থেকে। এছাড়াও মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়ায় অবস্হিত এম্বাসি থেকে খুব সহজেই ১ দিনেই ভিসা পাওয়া যায়।
লাওস ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র নয়া দিল্লী থেকে
১. পাসপোর্ট
২. ফর্ম পূরন (এম্বাসি থেকে দিবে)
৩. এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (থাইল্যান্ড/ভারত এর সাইজের ছবি হলেই চলবে)
৪. আসা যাওয়ার বিমান টিকেট (শুধু বুকিং হলেই চলবে পেইড লাগবেনা)
৫. হোটেল বুকিং (শুধু বুকিং হলেই চলবে পেইড লাগবেনা)
৬. ৬ মাসের ব্যাংক স্ট্যটমেন্ট
ভিসা ফি: ৩৫০০ রুপি। সকাল ১০ টায় জমা দিলে দুপুর ১২টার দিকে পাসপোর্ট ভিসা সহ দিয়ে দিবে।
এম্বাসি ঠিকানা: Goolgle Map Link
তবে কম্বোডিয়ায় এবং মালশিয়া থেকে ফর্ম পূরন, ১ কপি ছবি এবং পাসেপার্ট দিলেই হয়ে যায়।
লাওস ভ্রমনের ভাল উপায় হচ্ছে আপনি যদি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ভিয়েতনাম ভ্রমনে আসেন এবং আরও একটি দেশ সাথে রাখতে চান সেক্ষেত্র লাওসকে সাথে রাখতে পারেন। অনকেই এভাবে ভ্রমন করে থাকে যেমন বাংলাদেশ > থাইল্যান্ড > কম্বোডিয়ায় > লাওস > থাইল্যান্ড > বাংলাদেশ।
প্রথম দিন
আমাদের টিকেট ছিল ব্যাংককের ডং মুয়াং এয়ারপোর্ট থেকে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে। ৩ ঘন্টা আগেই চলে যাই এয়ারপোর্ট এবং বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করি। ট্রিপ.কম থেকে টিকেট কাটার কারনে আমরা একটি কোরাল এক্সকিউটিভ লাউন্জে ফ্রি এক্সেস পাই ট্রিপ.কম এর পক্ষ থেকে।একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক বুকিং এর পরে এই অফারগুলো গ্রাহকদেরকে দিয়ে থাকে।


ব্যাংকক থেকে ভিয়েনতিয়েন ফ্লাইট টাইম ১ ঘন্টা ১০ মিনিট। ভিয়েনতিয়েনের Wattay International Airport ছোট একটি এয়ারপোর্ট।
ইমিগ্রেশন অভিজ্ঞতা
ইমিগ্রেশন অফিসার সব ডকুমেন্টস দেখার পর আলাদা রুমে ডেকে নিল। চারপাশে কয়েক জন অফিসার। একটু ভীত ছিলাম। একজন লেডি অফিসার কয়েকটি প্রশ্ন করল।
অফিসার: আপনার ভিসা আছে?
আমি: জ্বি
অফিসার: লাওস ভ্রমনের উদ্দেশ্য কি?
আমি: ভ্রমনে এসেছি
অফিসার: থাইল্যান্ডে আপনি কি করেন?
আমি: উত্তর দিলাম।
ব্যাস ১ মিনিটেই কাজ শেষ। ডলারও দেখতে চায়নি, এজেন্সি থেকে প্যাকেজ কিনা আছে কিনা তাও দেখতে চায়নি। এয়ারপোর্টে কোন ডলার ডিপোজিট রাখেনি। সিল দিয়ে ১ মাসের থাকার অনুমদন দিয়ে বিদায় করে দিল।
দু:খজনক বিষয় কতিপয় কিছু বাংলাদেশী মানব পাচারকারীদের জন্য লাওস ইমিগ্রেশন একটু বাংলাদেশীদের জন্য কড়াকড়ি ভাবে পর্যবেক্ষন করে থাকে। তবে ভয়ের কিছু নেই, আপনার ভিসা এবং অন্যান্য বুকিং ডকুমেন্টস এবং সাথে ১০০০ ডলার জনপ্রতি ক্যাশ থাকলে সমস্যা হবেনা আসা করি।
ডকুমেন্টস যা যা ছিল:
১. রিটার্ন টিকেট
২. হোটেল বুকিং পেইড
৩. ট্যুর আইটিনারি (যে যে প্লসগুলো ঘুড়ব একটা লিস্ট করে নিয়েছিলাম)
৪. থাইল্যান্ডের রি-এন্ট্রি এবং জবের কাগজপত্র।
ইমিগ্রেশন ফর্মালিটিস শেষ করে চলে আসি বাহিরে। সিম কার্ড নিয়ে নেই ১০ দিনের আনলিমিটেড প্যাকেজ ৫ ডলার দিয়ে। ১০০ ডলার এক্সচেন্জ করে পেয়েছি ২০,৬০,০০০ কিপ। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি করে হোটেলে চলে আসি ১,৪২,০০০ কিপ দিয়ে।
হোটেলে ফিরতে ফিরতে সন্ধা হয়ে গেছে। ফ্রেশ হয়ে খাবার সন্ধানে বের হয়ে গেলাম, হোটেলের আশে পাশে অনেকগুলো রেস্তারা রয়েছে। যাদের আমার মত বাংলা খাবার পছন্দ করেন ভিয়েনতিয়েনে একটি বাংলাদেশী খাবারের দোকান রয়েছে।
রাতের বেলা ভিয়েনতিয়েন নাইট মার্কেটটি এক্সপ্লোর করেছি। নদীর ধারেই মার্কেটি বসে এবং এখান থেকে থাইল্যান্ড দেখা যায়।
দ্বিতীয় দিন
দ্বিতীয় দিন আমরা হোটেল থেকে একটি মটরবাইক ভাড়া নিয়ে নেই। মটরবাইক থাকলে এক্সপ্লোর করতে সুবিধা। ভিয়েনতিয়েন শহরে পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট শুধু টুকটুক রয়েছে। প্রথমে চলে যাই পাতুক্সাই ভিক্টরি মর্নামেন্ট। এটি লাওসের ডাউনটাউন ভিয়েনতিয়েনে একটি যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা লড়াই করেছিল তাদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছিল। এটি বর্তামানে ভিয়েনতিয়েনের প্রধান আকর্ষন। এই স্মৃতিস্তম্ভের উপর থেকে সিটি ভিউ অসাধারন।
দুপুর পর্যন্ত সময় কাটিয়ে আমরা চলে আসি রিভারসাইড ওয়াকওয়েতে। এখানের বিকেলটি বেশ সুন্দর। নদীর ওপারেই থাইল্যান্ডের নংখাই শহর দেখা যায়। সন্ধায় এখানেই নাইট মার্কেটি জমজমাট হয়ে উঠে। ভিয়েনতিয়েনে জনসংখ্যা খুব কম। রাস্তাঘাটে তেমন ট্রাফিক দেখা যায়না।
এর পর আমরা চলে যাই পার্কসন শপিং মলের সামনে। আমার কাছে মনে হয় এটিই লাওসের সবচেয়ে বড় এবং লাক্সারি শপিং মল।
তৃতীয় দিন
তৃতীয় দিন প্লান ছিল ভিয়েনতিয়েন থেকে হাই স্পিড ট্রেনে ভেং ভিয়াং যাব। ১২গো এশিয়া থেকে আগেই ট্রেনের টিকেট কেটে ফেলি। ভাল হয় মিনিমাম দুইদিন আগে থেকে টিকেট কাটা। লাওসের ট্রেনের টিকেট হোটেল থেকেও কাটা যায় কিন্তু অনলাইনে কেনাটায় আমার কাছে সেরা মনে হয়েছে।




মাত্র ৪০ মিনিটে চলে আসি রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে ভেং ভিয়াং। ভেং ভিয়াং রেলওয়ে স্টেষন থেকে শেয়ার্ড ভ্যান পাওয়া যায় সিটি সেন্টারে বা হোটেলের নাম বললে হোটেলে নামিয়ে দিবে।
আজকের দিনের প্লান ছিল Namsong Bridge এর আশেপাশে রিভার সাইটটা এক্সপ্লোর কর। অসাধারন জায়গা এটি। লাওসের রাস্তা-ঘাট বেশি একটা ভালনা, ধূলাবালি প্রচন্ড এবং বাইক চালানো একটু রিস্কি। ট্রাফিক রুলসও ভেং ভিয়াং এ তেমন কেউ একটা ফলাে করেনা। প্রচুর টুরিস্ট দেখতে পেয়েছি এই শহরে। ছোট্ট এই শহরটি সব কিছুই হাতের নাগালে ছিল, এবং স্ট্রিট গুলােতে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি। যারা ফ্যামিলি বা গ্রুপ ট্যুরে আসবেন গাইড সহ প্যাকেজ ট্যুর পেয়ে যাবেন, যা অনেকটা সাশ্রয়ী হবে।
ভেং ভিয়াং এর মূল আকর্ষন হচ্ছে ব্লু-লেগুন, কেইভ, ভিউ পয়েন্ট ছাড়াও হট এয়ার বেলুনে চড়া, প্যারাগ্লাইডিং
অন্যতম।
চতুর্থ দিন
সকাল বেলা হোটেল থেকে নাস্তা শেষ করে আমরা বের হয়ে পরি। লাওসে মোটামুটি মানের হোটেলেও ফ্রি ব্রাকফাস্টের সুবিধা থাকে। আজকে আমাদের প্রথম গন্তব্য ব্লু লেগুন ১। রাস্তার ঘাটের অবস্হা খুব বাজে ছিল সাথে প্রচন্ড ধুলা। সিটি সেন্টার থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের ড্রাইভ, চলে আসি ব্লু লেগুন ১ এ। ব্লু লেগুন এটি একটি প্রাকৃতিক সুইমিল পুল বলা যায়। স্বচ্চ নীল জল খুব বেশী গভীরতাও নয়। এইরকম ব্লু-লেগুন আরও ৩ টি আছে। প্রবেশ মূল্য ২০,০০০ কিপ।




আমাদের পরের গন্তব্য ছিল Nam Xay Viewpoint। এখান উপরে ভিউ পয়েন্টে যাওয়ার জন্য ১ ঘন্টার মত ট্রেকিং করতে হয়। যারা ট্রাকিং এ অভ্যস্ত না বা পূর্বে ট্রাকিং অভিজ্ঞতা নেই এখানে না যাওয়াই ভাল। রাস্তা অনেক খাড়া এবং পাথরগুলাে পিচ্ছিল। ট্রাকিং জন্য পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সাথে পানি, জুতা নিয়ে যাওয়া ভাল হবে। সর্বশেষ ৫ মিনিট একটু বেশী বিপদজ্জনক তবে উপরে পৌছে গলে আর কস্ট মনে হবেনা করা ভিউ টা অসাধারন। এখানে দুইটি মটর বাইক রয়েছে যার সাথে মানুষজন ছবি তুলে, সোস্যাল মিডিয়াতে এই প্লেসটি খুবই জন প্রিয়। নামার সময় খুব বেশী কস্ট হবেনা, ৩০ মিনিটেই নীচে নামা যায়।
এছাড়াও লাওসের আরও একটি স্পট Tham Nam (Water Cave) কেভ এ কায়াকিং করা। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারনে ওই প্লেসটাতে যাওয়া হয়নি। এছাড়াও যদি সময় থাকে হাতে হট এয়ার বেলুন, জিপ লাইন, প্যারাগ্লাইডিং, বোট রাইডিং বাকেট লিস্ট রাখতে পারেন। হোটেল থেকে প্যাকেজ না নিয়ে রাস্তার পাশে অনেক এজেন্স দেখবেন ওখান থেকে হোটেল থেকে সাস্রয়ী মূল্যে ডে ট্রিপের প্যাকেজগুলো নিতে পারবেন।
পঞ্চম দিন
আজকে আমদের প্লান ভেং ভিয়াং থেকে লুয়াং প্রাবাং যাব। ট্রেনের টিকেট সকালের সময়ে বুকিং দিয়েছিলাম কিন্তু বেশী দেরী হয়ে যাওয়াতে টিকেট পেয়েছি বিকেল বেলা। প্লান ছিল দুপুরের মধ্যে হোটেলে চেকইন করে সিটি এক্সপ্লাের করতে বের হব। কিন্তু বিকলে টিকেট পাওয়ায় পুরো দিনটাই নস্ট।
আমরা যথা সময়ে ট্রেন স্টেষনে চলে আসি, লাওসের ট্রেনগুলো একদম সময় মত চলে এমনকি সব যাত্রী উঠে গেলে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। ১ ঘন্টা পূর্বে যাওয়া লাগে স্টেশনে। স্টেষন গুলো একটু শহরের বাহিরে শেয়ার্ড ভ্যান পাওয়া যায় স্টেষনে যাওয়ার জন্য।
লুয়ান প্রাবাং স্টেষনটি দেখতে অনেক সুন্দর, পাহাড়ে চারপাশ ঘেরা। লোকাল ট্রান্সপোর্ট এরিয়াতে শেয়ার্ড ট্যাক্সি বুকিং দেওয়া যায় খরচ পরে ৮০,০০০ কিপ জন প্রতি বা চাইলে প্রাইভেট ট্যাক্সি দিয়েও যায় ৩০০,০০০ কিপ পরবে।
হোটেলে এসেই বের হয়ে যাই লুয়াং প্রাবং এর নাইট মার্কেটি এক্সপ্লোর করতে। অসাধারন সুন্দর এই নাইট মার্কেটটি তে রয়েছে প্রচুর লাওসের হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টস। দাম তুলনামূলক সস্তা মনে হয়েছে। একদম শেষ প্রান্তে রয়েছে খাবারে দোকান।
ষষ্ট দিন
আমাদের প্লান ছিল সারাদিন কুয়াংসি ওটারফলে। শহর থেকে ৪৫ মিনিটের দূরত্ব, শেয়ার্ড ট্যাক্স করে যাওয়া যায়। আমি একটু স্কুটার ভাড়া করেছিলাম ৩০০,০০০ কিপ দিয়ে দুই দিনের জন্য। এখানে রাস্তা-ঘাট বেশী ভাল নয় এবং প্রচুর ধুলা থাকে বলা যায় আমাদের বাংলাদেশের মতই। যাওয়ার পথে একটা গ্রামের ক্যাফেতে বিরতি দেই। সুন্দর একটি ক্যাফে ছিল সাথে রিভার ভিউ।
স্কুটার ৫০০০ কিপ দিয়ে পার্কিং করে চলে যাই টিকেট কাউন্টারের দিকে। ফরেনারদের জন্য ২৫,০০০ জন প্রতি টিকেট সাথে ইলেকট্রিক ফ্রি সাটল বাস সার্ভিস রয়েছে ওয়াটার ফল গেট পর্যন্ত। মিনিট পাচেক ড্রাইভের পরেই আমরা পৌছে যাই ওয়াটার ফলের মূল প্রবেশদার ফটকে। টিকেট দেখিয়ে ভিতরে চলে যাই, এখানে রাস্তা দুইটি একটি সরাসরি কম সময়ে মূল ঝর্নার কাছে যাওয়া যাবে এবং অন্য একটি ওয়াক ট্রেইল ঝর্নার পাশে দিয়ে হেটে হেটে মূল ঝর্নার কাছে যাওয়া যায়।